তাসাউফ শব্দের অর্থ পশমি পোশাক পরিধান করা।
সালাত সমাজজীবনে সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দেয়। সালাত সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়। জামায়াতে সালাত আদায়ের মাধ্যমে সময়ানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলাবোধের সুমহান শিক্ষা পাওয়া যায়। সমাজের আচরণগত অশালীনতা ও অশ্লীলতা দূর করার জন্যও সালাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুনির্দিষ্ট সময়ে জামায়াতে সালাত আদায়ের মাধ্যমে মানুষ সব সামাজিক কর্তব্য যথাসময়ে শৃঙ্খলার সাথে সম্পাদন করার শিক্ষা পায়।
দুদু মিয়ার নির্ধারিত দান বলতে জাকাত বোঝায়, যার গুরুত্ব অপরিসীম। কোনো ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে সেই ব্যক্তির ওপর জাকাত ফরজ। নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলো ৭.৫ তোলা সোনা বা ৫২.৫ তোলা রূপা কিংবা এর যেকোনো একটির সমপরিমাণ অর্থ। দুদু মিয়া নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও জাকাত দেন না।
উদ্দীপকের দুদু মিয়া প্রচুর ধন সম্পদ তথা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও আয়করের দোহাই দিয়ে জাকাত আদায় করেন না। অথচ তার মতো ব্যক্তিরা নিয়মিত জাকাত আদায় করলে সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধিত হয়। ধনী ব্যক্তিদের প্রদানকৃত জাকাতের অর্থ সঠিকভাবে বণ্টন করা গেলে সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য নির্মূল করা সম্ভব। দরিদ্র-অসহায় মানুষগুলোর অভাব-অনটন দূরীকরণে জাকাতের ভূমিকা অনন্য। এ প্রসঙ্গে সহিহ মুসলিম ও বুখারি শরিফের হাদিসে এসেছে, 'জাকাত মুসলিম ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে আর তা ব্যয় করা হবে মুসলিম দরিদ্রদের মধ্যেই।' তাই জাকাতলব্ধ অর্থ পরিকল্পিত উপায়ে ব্যয় করা হলে সমাজে অভাব-অনটন থাকবে না। তাছাড়া জাকাতের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ববোধের উন্মেষ ঘটে, দরিদ্রদের প্রতি আন্তরিকতা ও সহানুভূতি সৃষ্টি হয়, সামাজিক নিরাপত্তা বিধান হয় এবং সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণ করা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, যেকোনো রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য জাকাতের বিধান সঠিকভাবে পালনের কোনো বিকল্প নেই।
ইমাম সাহেবের উদ্ধৃত হাদিসে হালাল উপার্জনের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। উপার্জনের ক্ষেত্রে দুটি মাধ্যম বিদ্যমান; হালাল ও হারাম। হালাল উপার্জন অর্থ হলো ন্যায়সঙ্গতভাবে বা বৈধ উপার্জন করা। ইমাম সাহেবের উদ্ধৃত হাদিসে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
উদ্দীপকের ইমাম সাহেব হালাল উপার্জন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, রাসুল (স) বলেছেন, 'হালাল রুজি (জীবিকা) অন্বেষণ করা ফরজের পরও একটি ফরজ' (শুআবুল ইমান- বায়হাকি)। অর্থাৎ ব্যবসা-বাণিজ্য পবিত্র পেশা। এ পেশার মাধ্যমে সৎভাবে উপার্জন করা সম্পূর্ণ হালাল। আর সৎ ব্যবসায়ীর জন্য আল্লাহ তায়ালা পরকালে উত্তম প্রতিদানের ব্যবস্থাও রেখেছেন। ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে যদি সততা অবলম্বন করে তবে তারা আখিরাতে উত্তম প্রতিদান পাবে। প্রকৃতপক্ষে একজন মুসলমানের জন্য হালাল উপার্জনের কোনো বিকল্প নেই। কারণ অবৈধ উপার্জনকারীর ইবাদত কবুল হয় না। সে জন্যে হালাল উপার্জন করা অন্যান্য ফরজের মতো নিছক ফরজ মাত্র নয়, বরং এটি ফরজের চেয়েও বেশি। তাছাড়া আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, 'তোমরা উত্তম ও পবিত্র বস্তু আহার করো, যা আমি তোমাদের জীবিকারূপে দিয়েছি' (সুরা আল- বাকারা: ১৭২)। আবার মহানবি (স) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি হালাল উপার্জনের মাধ্যমে তার পরিবার প্রতিপালনের চেষ্টায় থাকে, সে আল্লাহর পথে মুজাহিদের মতো।'
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, আমাদের সবার উচিত কুরআন ও হাদিসের আলোকে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা।
Related Question
View Allযেসব ইবাদতের ওপর ইসলামের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে তাই মৌলিক ইবাদত।
মহানবি (স) ইসলামের মৌলিক ইবাদত হিসেবে চার রকমের ইবাদতের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (স) তাঁর বান্দা ও রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, হজ করা ও রমজানের রোজা পালন করা। এ পাঁচটি ইবাদতের মধ্যে প্রথমটি আকিদাগত বিষয়। বাকি চারটি হলো আনুষ্ঠানিক ইবাদত। আর মৌলিক ইবাদত বলতে সাধারণত এ চারটি ইবাদতকেই বোঝায়।
জনাব মিরাজের এরূপ অস্বীকৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে কুফর। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম সাওম। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ, স্থায়ী অধিবাসী বা মুকিম এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম নারী, পুরুষের ওপর রমজান মাসের রোজা রাখা ফরজ। জনাব মিরাজের মধ্যে এই ফরজ ইবাদতটি অস্বীকারের দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়। জনাব মিরাজ নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করেন। কিন্তু ক্ষুধা সহ্য করতে না পারার কারণে তিনি রোজা পালন করতে রাজি নন। অথচ শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণ ছাড়া সাওম পালন না করা কবিরা গুনাহ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর সাওম পালন ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর (আল বাকারা-১৮৩)।
কুরআনের এ আয়াতের আলোকে বোঝা যায়, এটি অবশ্যপালনীয়। শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণে এটা পালন সম্ভব না হলেও পরে কাযা করতে হবে বা ফিদইয়া দিতে হবে। কেউ যদি ইসলামের এই ফরজ বিধানকে অস্বীকার করে তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। জনাব মিরাজ ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত এবং বুনিয়াদি স্তম্ভ সাওম পালনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাই তার মনোভাব কুফরির শামিল।
'আমি ক্ষুধা সহ্য করতে পারি না'- সাওম সম্পর্কে জনাব মিরাজের এরূপ মন্তব্য সম্পূর্ণরূপে শরিয়তসম্মত নয়। মানুষের অনন্ত ও স্থায়ী জীবন হলো পরকালীন জীবন। এই জীবনের সফলতাই প্রকৃত সফলতা। আর পরকালীন জীবনে সফলতার অন্যতম মাধ্যম হলো সাওম পালন করা। এ বিষয়টিই ইমাম সাহেবের মন্তব্যে পরিলক্ষিত হয়।
ইমাম সাহেব জনাব মিরাজের সাওম পালনে অস্বীকৃতির জবাবে বলেছেন, "হাশরের ময়দানে সাফল্য লাভ করতে হলে অন্যান্য মৌলিক ইবাদতের পাশাপাশি তোমাকে অবশ্যই সাওম পালন করতে হবে।” কথাটি অবশ্যই শরিয়তসম্মত এবং যৌক্তিক। এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবার পর সব মানুষ কিয়ামতের ময়দানে একত্রিত হবে। সূর্য অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়ায় এর প্রচণ্ড তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোনো ছায়া থাকবে না। এমতাবস্থায় সাওম পালনকারীরা পাবে আরশের ছায়া। সেখানে তারা অত্যন্ত নিরাপদে থেকে বিচারের অপেক্ষায় থাকবে আর বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। কারণ সাওম সেদিন মহান আল্লাহর কাছে তাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করবে এবং আল্লাহ সেই সুপারিশ কবুল করবেন। অবশ্যই এজন্য সাওম পালনের পাশাপাশি অন্যান্য ফরজ ইবাদতগুলোও পালন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স) ইরশাদ করেন, সাওম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সাওম বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও যৌন কামনা থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে রাতের বেলায় ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।
উপরের আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, ইসলামের দৃষ্টিতে জনাব মিরাজ সাহেবের এরূপ মন্তব্য যথার্থ নয়।
ইবাদত প্রধানত দুই প্রকার। যথা: হাক্কুল্লাহ এবং হাক্কুল ইবাদ।
হাক্কুল ইবাদ বলতে মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে বোঝায়। মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজবদ্ধ হয়েই তাদেরকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া- প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে এক সাথে বসবাস করি। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দিই। আপদে-বিপদে একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। পরস্পরের প্রতি এ সহানুভূতি ও দায়িত্বই হাক্কুল ইবাদ তথা বান্দার হক বা অধিকার।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!